Homeব্লগInformation & InquiriesMRCP UK সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য ও জিজ্ঞাসা

MRCP UK সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য ও জিজ্ঞাসা

প্রিয় চিকিৎসকগণ, MRCP (UK) সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য ও জিজ্ঞাসা সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। ডাক্তারদের জন্য MRCP এক স্বপ্নের নাম। যে স্বপ্নের পেছনে দেশ ও দেশের বাইরের হাজার হাজার ডাক্তার তাদের মেডিসিনের ক্যারিয়ার গড়তে ছুটে চলেছে। শাব্দিক ভাবে, MRCP এর পূর্ণ রুপ Membership of the Royal College of Physicians. রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান অফ এডিনবার্গ, রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান এ্যান্ড সার্জেনস অফ গ্লাসগো এবং রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান অফ লন্ডনের যৌথভাবে সদস্য পদ লাভের জন্য এটি একটি মেম্বারশীপ পরীক্ষা। যা পাশ করার মাধ্যমে আপনি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত MRCP (UK) Diploma (স্নাকোত্তর ডিগ্রী) অর্জন করতে পারবেন।

image 2 - Medical Higher Study™

মেডিসিনে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে অনেকেই এমবিবিএসের পর MRCP (UK) পরীক্ষা দেওয়ার কথা ভাবেন। এই ডিগ্রি শুধুমাত্র জ্ঞান বা দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করে না বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চতর ট্রেনিং ও ক্যারিয়ারের দ্বারও উন্মুক্ত করে। অনেকের মনে এই পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন থাকে। আজকের ব্লগে MRCP (UK) সম্পর্কে বিস্তারিত সাধারণ তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এবং বাড়তি কিছু তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আশা করি এরপর  এসকল প্রশ্ন নিয়ে আপনাদের আর কোন কনিফিউশন থাকবে না।

MRCP (UK)  Part-1 কি?

MRCP(UK) Part-1 একটি প্রাথমিক পরীক্ষা, যা চিকিৎসকরা MBBS পাশ করার অন্তত ১ বছর ক্লিনিকাল অভিজ্ঞতা অর্জন তথা ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর  দিতে পারেন। এখানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর একজন পরিক্ষার্থীর তত্ত্বীয় জ্ঞান,  ক্লিনিক্যাল চিন্তা করার দক্ষতা যাচাই করে।

এক নজরে Part-1

    • এক দিনেই পরীক্ষা শেষ

    • ২ টি পেপার

    • প্রতি পেপার ৩ ঘন্টা করে পরীক্ষা,  দুই পেপার এর মাঝে ১.৫ ঘন্টা বিরতি থাকবে।

    • প্রতি পেপারে ১০০ টি করে প্রশ্ন থাকবে

    • প্রতিটি প্রশ্নের ৫ টি করে অপশন থাকবে।

    • সঠিক উত্তর একটি থাকে সাধারণত

    • কোনও প্রশ্নে কোনও ছবি থাকবে না।

    • এই পরীক্ষায় কোনও নেগেটিভ মার্কিং নেই।

    • সর্বমোট ৯৯৯ নম্বরের পরীক্ষা হবে

পাশ মার্ক দুই পেপার এর নাম্বার যোগ করে নির্ধারন করা হয়। আলাদা আলাদা দুই পার্টেই পাশ করা বাধ্যতামূলক না।  এক এক ডায়েটে এক এক রকম নাম্বার নির্ধারিত হতে পারে৷ তবে, সাধারণত গত কয়েক ডায়েটে ৫৪০ বা তার আশে পাশেই থাকে। সেই হিসাবে গড়ে ১২০-১২২ টি প্রশ্ন সঠিক হলে পাশ করা সম্ভব।

কোন প্রশ্নে কত নাম্বার সেটা জানার কোনও ব্যবস্থা নাই।

MRCP Part-1 পরীক্ষা কিভাবে অনুষ্ঠিত হয়?

যদি বাংলাদেশে থেকে পরীক্ষা দেন, তাহলে RCP দ্বারা নির্ধারিত সেন্টারে গিয়ে কম্পিউটার বেইজড অনলাইন পরীক্ষা দিতে হবে। এখানে হাতে কলমে গোল্লা ভরাট কোনও বিষয় নেই। উল্লেখ্য সীট এর  তুলনায় অনেক বেশী পরীক্ষার্থী থাকায় খুব দ্রুতই স্লট ফিলাপ হয়ে যায়। তাই, সীট বুকিং উইনডো খোলার সাথে সাথেই তা বুক করে ফেলতে হবে। বুকিং করার সাধারণত ২৪/৪৮/৭২ ঘন্টার মাঝে টাকা দিয়ে বুকিং কনফার্ম কর‍তে হয়।  এসব তথ্য মেইল এর মাধ্যমে জানানো হয়।

বছরে কতবার Part-1 পরীক্ষা দেয়া যায়?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন বছরে তিন বার পরীক্ষা দেয়া যাবে। ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী  ২০২৬ সালের জন্য ৩টি ডায়েটের পরীক্ষা তারিখ  যথাক্রমে –

    • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

    • ২১ মে, ২০২৬

    • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তবে তারিখ পরিবর্তন কিংবা কোনও কারনে পরীক্ষা বাতিল হলে কর্তৃপক্ষ তা আগেই জানিয়ে দিবে। যেমন- ২০২৪ সালের আগষ্টের ডায়েট এর Part -1 পরীক্ষাটি বাংলাদেশ সেন্টারে বাতিল করা হয়েছিলো।

উল্লেখ্য, আপনি MRCP UK website এ গিয়ে কোন ডায়েটের জন্য কত তারিখের মাঝে আবেদন করে ফেলতে হবে তার তথ্য পেয়ে যাবেন।

MRCP Part-1 পরীক্ষার আবেদন করতে কেমন টাকার প্রয়োজন?

হংকং ও ইউনাইটেড কিংডম ব্যাতীত বাকি সব দেশের জন্য ২০২৫ সালের Part -1 এর সকল ডায়েটের পরীক্ষার ফিস £655, অর্থাৎ ব্যাংক রেইট ১ পাউন্ড = ১৫০ টাকা হিসাবে ধরি, প্রায়  ৯৮,২৫০ টাকা গুণতে হবে। (টাকার হিসাবে কিছুটা কম বেশী হতে পারে)

Part-1 এর ফলাফল কত দিন পর দেয়?

সাধারণত ১ মাস পরেই নিজস্ব RCP একাউন্টে পাস/ফেইল, নাম্বার জানিয়ে দেয়। তবে কোন বিষয়ে শতকরা  কেমন নাম্বার এসেছে বা বাকি পরীক্ষার্থীদের সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে কিছুদিন সময় নিতে পারে।

কিভাবে MRCP Part-1 পরীক্ষার জন্য আবেদন করবেন?

প্রক্রিয়াটি কঠিন নয়। তবে ঠান্ডা মাথায়, ধৈর্য্য নিয়ে শেষ করতে হবে।

আবেদন করার প্রধান ধাপগুলো:

    • My MRCP (UK) লিখে ওয়েব পেইজ এ যান এবং প্রথম বারের  আবেদনের জন্য Register for an online account থেকে নিজের একাউন্ট খুলুন।

    • নিশ্চিত করুন যে আপনার সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য আপডেট আছে।

    • আপনি যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন কি না, সে সম্পর্কিত তথ্য পূরণ করুন।

    • পরীক্ষার জন্য যে কেন্দ্রে বসতে চান, সেটি নির্বাচন করুন।

    • প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থা সম্পর্কিত তথ্য দিন।

    • পরীক্ষার ফি পরিশোধ করুন।

নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে কাজ গুলো সম্পন্ন করলে একাউন্টটি খোলা হয়ে যাবে। অবশ্যই ID আর password সংরক্ষণ করবেন। আর আবেদনের পর থেকে প্রতিদিন একবার হলেও নিজের মেইল বক্স চেক করবেন।

আপনার আবেদন জমা দেওয়ার পর, আপনাকে একটি RCP কোড প্রদান করা হবে।

আপনাকে আপনার প্রাথমিক মেডিকেল যোগ্যতার (PMQ) প্রমাণ সরবরাহ করতে হবে এবং সেটি PMQ@thefederation.uk ইমেইলে আপনার RCP কোডের সঙ্গে পাঠাতে হবে।

PMQ কি?

Primary Medical Qualification অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য আমাদের  MBBS পাশের যে সনদ টি আছে সেটি-ই PMQ.

যদি কারো PMQ ইংরেজীতে না হয়ে অন্য ভাষায় হয়, তবে আগে সেটাকে ইংরেজীতে অনুবাদ করে নিতে হবে।

আপনি যখন প্রথম বার আবেদন করবেন তখন কর্তৃপক্ষকে আপনার এই যোগ্যতার প্রমান স্বরূপ সনদের স্ক্যান কপি সত্যায়িত করে ইমেইল এ পাঠাতে হবে। যতক্ষণ রেজিষ্ট্রেশন উইনডো খোলা থাকবে ততক্ষণ তারা এগুলো গ্রহন করবে। এর আগে বা পরে না।

আপনার যদি আগে থেকেই GMC রেজিষ্ট্রেশন থাকে তার নাম্বার দিতে হবে। সেক্ষেত্রে, PMQ এর অন্যান্য কাগজ তারা রিকোয়েস্ট না করলে জমা দিতে হবে না।

উল্লেখ্য কোনও প্রকার মূল কপি পাঠানোর প্র‍য়োজন নেই। তবে, পাঠানো কাগজপত্রে তাদের সন্দেহ থাকলে তারা মূল সনদ দেখতে চাইতে পারে।

ইমেইল এর ধাপ সমূহ কেমন হতে পারে?

ইমেইলের ধাপসমূহ-

    • আপনার ইমেইলের subject হিসেবে (Primary Medical Qualification) এবং আপনার RCP কোড নম্বর উল্লেখ করবেন।

    • আপনার ফর্ম এবং ডকুমেন্টগুলোর স্ক্যান কপি ইমেইলের সাথে সংযুক্ত করুন। ফাইল সংযুক্ত করার পদ্ধতি জানতে আপনার ইমেইল প্রোগ্রামের সাহায্য নির্দেশনা পর্যালোচনা করতে পারেন।

    • ছবিগুলো PDF অথবা JPEG ফাইল ফরম্যাটে হতে হবে এবং পাসওয়ার্ড প্রোটেক্টেড হতে পারবে না।

    • রেজোলিউশন যথেষ্ট ভালো হতে হবে।  যেন,  মূল কাগজপত্রের সব লেখা, ছবি, চিহ্ন, এবং সীল পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়।

    • একাধিক পৃষ্ঠার ডকুমেন্টগুলোর সব পৃষ্ঠা এবং দুই-পৃষ্ঠার এর ডকুমেন্টগুলোর উভয় পৃষ্ঠা অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    • ইমেইলের আকার ২MB-এর এর মধ্যে থাকবে।  যদি একাধিক ফর্ম ও ডকুমেন্ট পাঠানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে একাধিক ইমেইল পাঠানো যেতে পারে।

    • Zip ফাইল গ্রহণযোগ্য নয়।

    • Google Drive ফাইল গ্রহণযোগ্য নয়।

    • যদি স্ক্যান করা ডকুমেন্টের মান গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে আপনাকে নতুন এবং উচ্চমানের স্ক্যান করা ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হবে।

PMQ সংক্রান্ত মেইল পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কেমন সময় অপেক্ষা করতে হবে?

আবেদন এর সময়কাল শেষ হবার পরে সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে, সব ঠিক থাকলে এর আগেই কর্তৃপক্ষ মেইল এর উত্তর জানিয়ে দেয়।

আমি PMQ জমা দিয়েছি, তাও আমাকে application incomplete দেখাচ্ছে কেনো?

আপনাকে পুরো ফি জমা দিতে হবে।  তারপরেও incomplete দেখাতে পারে। ভয় পাবেন না। ওদের PMQ ভেরিফাই করা হয়ে গেলে তারপর complete দেখাবে।

কারা বা কে এই PMQ সত্যায়িত করবে?

আপনি ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে এটি করতে পারেন। যা কিছুটা সময় ও খরচ সাপেক্ষ।  সহজ হলো, যারা MRCP (UK)  পাশ করেছেন অর্থাৎ নিজস্ব RCP code আছে তারা চাইলে আপনাকে সহজেই সত্যায়িত করে দিতে পারে৷ পরে সেটি আপনি স্ক্যান করে মেইল করে পাঠিয়ে দিবেন।

টাকা জমাদানের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে?

সাধারণত ডুয়াল কারেন্সী ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আপনি ফিস জমা দিতে পারবেন। তবে, সমস্যা হয় ৩০০ ইউ এস ডলারের বেশী বাংলাদেশী কার্ড গুলো দিয়ে লেনদেন এর ক্ষেত্রে  ব্যাংক থেকে আগেই কথা বলে Gateway খোলা রাখতে বলতে হবে। যেনো, ফিস জমা দানের সময় কোনও জটিলতা না হয়। এই ক্ষেত্রে কিছু এজেন্সী টাকা জমা দেয়ার কাজগুলো করে দেয়। আপনি তাদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিবেন। তবে অবশ্যই তা নির্ভর‍যোগ্য হতে হবে।

সীট বুকিং স্লট ওপেন করার কতদিনের মধ্যে করবেন?

মনে রাখতে হবে, অন্য আরেকজন টাকা দিতে আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে তবে পরীক্ষার সিট বুকিং আপনাকে নিজেকেই করতে হবে।  যেহেতু সবাইকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না সীমিত সংখ্যক সিট থাকে।  তাই, অবশ্যই যখন স্লট ওপেন হবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই যত দ্রুত সম্ভব বুকিং করে ফেলবেন। প্রতি সেশনেই এমন অনেকেই থাকেন, যারা যথেষ্ঠ প্রস্তুতি সম্পন্ন কিন্তু সিট বুকিং করতে পারেননি বলে পরীক্ষা অংশগ্রহণ করতে পারেনি। সাধারণত বাংলাদেশ সময়ে ভোর ছয়টায় স্লট খোলা হয়।

আসুন এবার মূল আলোচনায় অর্থাৎ পরীক্ষার বিষয়বস্তু ও নাম্বার বিভাজন, পরীক্ষার প্রস্তুতি বিষয়ক কিছু বলি।

★ প্রথমে সিলেবাসটা জেনে নিন।  টপিক গুলোর নাম ও সম্ভাব্য কতগুলো প্রশ্ন সেই টপিক থেকে আসতে পারে সেটা দেখে নিন।

image - Medical Higher Study™

উল্লেখ্য,  কিছু কম বেশী হতে পারে। তবে মোটামুটি এরকম ই থাকে প্রশ্নের সং খ্যা।

কত ধরনের প্রশ্ন আসে?

সাধারনত বেশীর ভাগ প্রশ্নই ক্লিনিক্যাল বা কেইস বেজড। অর্থাৎ আপনাকে বাস্তব জীবনের সাথে সাদৃশ্য আছে এমন একটা সিচুয়েশান দিয়ে দেয়া হবে। তা থেকে আপনাকে এনালাইসিস করে বের করতে হবে কোনটা উত্তর।

যে ৫টা অপশন থাকবে তার প্রতিটাই হয়তো উত্তর হবার মত। কিন্তু, যে কেইস টা দিয়ে দিবে তা অনুসারে একটা উত্তর বাকি ৪ টার চেয়েও সঠিক হবে।

সাধারণত, প্রশ্নে ৭৫-৮০% প্রশ্ন এভাবে কেইস বেজড আসলেও ২০-২৫% প্রশ্ন বেসিক সাইন্স বা সোজা কথায় এনাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রী, জেনেটিক্স, ইমুনোলজি এসব থেকে আসবে।

ক্লিনিক্যাল প্রশ্নগুলো তে সাধারণত যে বিষয় চাওয়া হয় তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো

    1. Disease Diagnosis

    1. Next investigation

    1. Next best step of management

    1. Next drug treatment

    1. Basic knowledge extract etc

এর ভেতরেই আশা করা যায় পাবেন। তাই গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলো পড়ার সময় এই বিষয় গুলো মাথায় নিয়েই পড়ে ফেলতে হবে।

কোন বই বা টেক্সটবুক ধরে প্রস্তুতি নিবেন?

যেহেতু, কেইস বেজড প্রশ্ন আসে তাই প্রশ্ন সলভ করার মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ সবচাইতে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম।

সরাসরি ডেভিডসন বা হ্যারিসন পড়ে প্রস্তুতি নেয়াটা কিছু টা কৌশল গত বোকামি হয়ে যাবে। কারন, আপনি থিওরি বেইজড উত্তর দিবেন না। সিচুয়েশান এনালাইসিস করবেন। আপনাকে ফোকাসড এবং কৌশলী হতে হবে। তাই, প্রশ্ন সলভ করে সিচুয়েশান এনালাইসিস করা শিখতে হবে বেশী বেশী।

তাই প্রশ্ন ব্যাংক, প্রশ্ন ব্যাংক এবং প্রশ্ন ব্যাংক। এর বিকল্প নেই।  আর বই বলতে MRCP পরীক্ষা কেন্দ্রিক দুটো বই আছে সেগুলোর যে কোনও একটা আপনি পড়তে পারেন। তবে,  আপনার পড়ার টেবিলে একটা বা দুটো মেডিসিন এর টেক্সট বই রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে ডেভিডসন বা অক্সফোর্ড ক্লিনিক্যাল মেডিসিন এর বই প্রাধান্য পাবে। যখন ই আপনি কোনও বিষয় বুঝতে পারবেন না বই পড়ে ক্লিয়ার করে নিবেন।

তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়ালো, MRCP প্রস্তুতিতে Davidson এর ভূমিকা  নেই। বিষয়টা আসলে এমন নয়।  যাদের কোনো একটা টেক্সট বই বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে Davidson,  ভালোভাবে পড়া থাকে, তাদের যে বেইজ তৈরি হয় তা পাশের জন্য খুবই  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  কিন্তু যে চার থেকে ছয় মাস আপনি MRCP  পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবেন, ঐ   সময় টুকুতে  ডেভিডসনকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা না দেয়াই ভাল। বিষয় টা এমন হলে ভালো যে, ডেভিডসন আপনি আগেই পড়ে ফেলেছেন /ফেলবেন। তবে, ডেভিডসন ভালো ভাবে পড়া হয়নি বলে part -1 পাশ হবে না বিষয় টা এমন ও না। এখানে মূল বিষয় আপনার জ্ঞান অর্জন হয়েছে কিনা,  আপনার কাছে তথ্য আছে কিনা কিংবা আপনি এনালাইসিস করতে পারেন কিনা। কিভাবে পারেন সেটা RCP র বিবেচ্য বিষয় নয়।

MRCP (UK) শুধু মেডিকেল ডিগ্রি নয়—একটি সার্বজনীন মানের পরীক্ষা, যা আপনাকে জ্ঞান, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক সুযোগের সংমিশ্রণে নিয়ে যাবে। আপনি চাইলে দেশের ভেতরেই Part‐1, Part‐2 এবং এখন PACES পরীক্ষা দিয়ে চূড়ান্ত ডিপ্লোমা অর্জন করতে পারবেন। পাশাপাশি, এটি আপনাকে UK, Middle East, এমনকি অন্যান্য উন্নত দেশে উচ্চতর কাজ বা ট্রেনিংয়ের দরজা খুলে দেবে।

যদি আপনার লক্ষ্য মেডিসিনে স্পেশালিস্ট হওয়া, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্যারিয়ার গড়া, এবং রোগী‐সেবা ও গবেষণায় গভীর দক্ষতা অর্জন করা হয়—MRCP (UK) হতে পারে আপনার আদর্শ পথ।

কোন প্রশ্ন ব্যাংক পড়বেন? অনলাইন নাকি অফলাইন? বই দুটো কি কি?

যে দুটো প্রশ্ন ব্যাংক পড়ে বিশ্বের বেশীর ভাগ ডাক্তার এই বাধা কে অতিক্রম করেছে সেগুলো হলো:
Passmedicine
Pastest

সাথে পড়তে হবে Past Paper (এটি বিগত ডায়েট এর প্রশ্নের কালেকশান। পাস্টেস্ট এর সাবস্ক্রিপশান নিলে ওখানেই past paper পাওয়া যাবে)।

আরো কিছু প্রশ্ন ব্যাংক আছে। তবে, এই দুটো শেষ করার পর যদি চান সলভ করতে পারেন। যেমন – BMJ OnExam। তবে, প্রয়োজন হয় না সাধারণত।

বই দুটো হলো
Step up to MRCP by EL MAGRABY
Notes and Notes for MRCP by Yousif Abdallah Hamad

যে কোনও একটি বই পড়তে পারেন। তবে, notes & notes অনেক বেশী বিস্তারিত ও অনেক বেশী তথ্য সম্বলিত একটি বই। যা পড়া বেশ ধৈর্য্যের ব্যাপার। তবে যারা এটা ভালো ভাবে পড়ে আয়ত্ত করতে পারেন নি:সন্দেহে তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশী থাকবে। Part-1 এর পাশাপাশি Part -2 এর জন্যেও এই বই যারা পড়েন তাদের যথেষ্ট সুবিধা হয়ে থাকে। যারা এটা পড়েন, তারা এমন টাও বলেন, কেও যদি এই বই এর সব ” Red lines ” ” Bold line ” এবং ” Boxes ” গুলো ভালো ভাবে শেষ করতে পারে তাও অনেক। তবে মনে রাখতে হবে নোটস এন্ড নোটস শুধু একবার পড়ে গেলেই হবে না। রিভাইজ দিতে হবে এবং মনে রেখে প্রশ্নের উত্তর করার মতো ক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
আর মাগরাবি- র বইটি মূলত passmedicine এর তত্ত্বীয় আলোচনার একটা কালেকশান বলা যায়। পাশ করার জন্য যা যথেষ্ঠ।

যারা নিজেরা নোট করেন না, তাদের জন্য বই থাকলে রিভাইস করতে সুবিধা হয়। কারন, শেষ দিকে গোছানো বই থেকে আপনি রিভাইস করতে পারবেন।

প্রশ্ন ব্যাংক কি অনলাইন নাকি অফলাইন এ পড়বেন?

অবশ্যই অনলাইন। অনেকে আছেন যারা বই দাগিয়ে পড়তে বা বই দেখে পড়তে বেশী পছন্দ করেন। তাদের জন্যেও বলবো অনলাইন সাবস্ক্রিপশান ই বেস্ট। কারন, অনলাইন এ আপনি এমন কিছু সুবিধা পাবেন যা আসলে অফ লাইন এ সম্ভব ই না। উপাদান একই। কিন্তু, স্ট্যাটিস্টিক্যাল এবং কৌশলগত কিছু বিষয় অনলাইন এ অসাধারণ।

যেমন –

    • আপনি শতকরা কত ভাগ ভুল করছেন বা ঠিক করছেন।

    • আপনি প্রতিদিন কতগুলো প্রশ্ন সলভ করছেন, কত ভাগ বাকি রইলো, কোন গুলো ভুল হলো৷

    • চাইলে আপনি ভুল গুলো বা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলো রেড ফ্ল্যাগ করে রাখতে পারবেন। যেনো পরে আবার পড়তে পারেন।

    • আপনার পারফরম্যান্স আনালাইসিস করে আপনার দুর্বল জায়গা গুলো সনাক্ত করে দিবে।

    • আপনার ভুল বা সঠিক উত্তরের উপর ভিত্তি করে তারা আপনারে রিভিশান সেট করে দিবে।

    • প্রতিনিয়ত প্রশ্ন আপডেট হতে থাকে ইত্যাদি।

    • Pastest এর বিশেষ কিছু সুবিধা পাবেন ফ্লাশকার্ড, টপিক ভিডিও, দ্রুত সার্চ করে পছন্দ সই টপিক পড়ার সুযোগ।

    • Passmedicine এ বিশেষ কিছু সুবিধা পাবেন যেমন বিভিন্ন গাইডলাইন এর লিংক, প্রাসঙ্গিক বিষয়ের Youtube video লিংক, মক টেস্ট, বিগত সময়ে যারা এই প্রশ্ন গুলো সলভ করেছে তাদের আলোচনা। এই আলোচনা টা খুব হেল্পফুল। আপনি এখানে এমন কিছু পারেন যা হয়তো আপনাকে আনন্দিত করবে কিংবা মুখস্ত করতে বা বুঝতে মারাত্মক ভাবে সহায়তা করতে পারে।

Passmedicine নাকি Pastest কোনটা সলভ করবেন?

সত্যি বলতে দুটোই।
যদি আপনি একেবারেই নতুন হয়ে থাকেন। আগে ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা বেশী নেই। আপনি passmedicine দিয়ে শুরু করবেন। প্রতিটা প্রশ্ন, তার সাথে অপশন সাথে দেয়া থিওরী ও নীচে দেয়া টপিক এর বিশদ থিওরী সব ভালো ভাবে পড়বেন। তারপর pastest পড়বেন। যেখানে মূল কাজ প্রশ্ন সলভ। Topic explanation নয়।

তবে, আপনার যদি আগে পরীক্ষা দেবার অভিজ্ঞতা থাকে কিন্তু পাস হয়নি, কিংবা অনেক বছরের ক্লিনিক্যাল কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকে আপনি pastest পড়েও শুরু করতে বা প্রস্তুতি নিতে পারেন।

এক কথায় বললে, প্রশ্ন সং খ্যা দুটতেই কাছা কাছি। কিন্তু, থিওরী ভালো দেয়া আছে passmedicine এ। আর প্রশ্নের স্ট্যান্ডার্ড বিবেচনায় pastest অনেক টা এগিয়ে।

তবে, আতংকিত হবার কারন নেই, যারা দুটো পুরোপুরি পড়তে পারেনা তারা যে কেও পাশ করে না তা নয়। শুধু যে কোনও একটা ব্যাংক ভালো ভাবে সলভ করেও অনেকে পাশ করে। তবে, এত ব্যয়বহুল একটা পরীক্ষা, আপনি কি রিস্ক নিতে চাইবেন?

তবে, অবশ্যই যে কোনও একটি প্রশ্ন ব্যাংক সলভ করা শেষ হলেই passmedicine এর মক টেস্ট গুলো দিবেন, past paper সলভ করা শুরু করবেন। সময়ের আগেই যেনো শেষ করতে পারেন সেটাও এখানেই অনুশীলন করবেন। সাথে MRCP website এ গিয়ে RCP যে sample question দিয়ে রেখেছে তা সলভ করবেন।

সাবস্ক্রিপশান এর খরচ কেমন? শেয়ার করে পড়া ঠিক হবে?

Passmedicine এর খরচ তূলনামূলক কম। বাংলাদেশী টাকায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার মাঝেই সাবস্ক্রিপশন ছয় মাসের জন্য নেওয়া সম্ভব। তবে পাস্ট টেস্টের subscription এর খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বাংলাদেশি টাকায় বর্তমান মূল্য প্রায় বিশ হাজার টাকার কাছাকাছি।
শুধু তাই না আপনি কত মাসের জন্য সাবস্ক্রিপশান নিচ্ছেন তার উপরেও মূল্য আলাদা হতে পারে। যেমন ৪ মাস, ৬ মাস ইত্যাদি।

অনলাইন সাবস্ক্রিপশন কি শেয়ার করে নিবেন? নাকি একাই সাবস্ক্রিপশনটি নিবেন?

যদি বেশি সমস্যা না থাকে অনলাইন সাবস্ক্রিপশন গুলোর শেয়ার না করাই ভালো। পড়াশোনার অগ্রগতির পপরিস্থিতি নিজের মত করে বোঝা বা সাজানোর জন্য শেয়ার না করাই শ্রেয়। তাছাড়া, আপনি আপনার ইচ্ছেমতো যে কোন চ্যাপ্টার যেকোনো সময় পড়তে পারেন আপনার সুবিধা মত। সেক্ষেত্রে passmedicine এর সাবস্ক্রিপশন অবশ্যই শেয়ার না করে কিনা ভালো। তবে, pastest এর ক্ষেত্রে শেয়ার করে কিনতে পারেন কিংবা কোনও প্রতিষ্ঠান বা কোচিং যদি শেয়ার করে আর তাতে আপনার উপকার হয় সেটা নিতে পারেন।

কখন বুঝব যে, আপনার প্রস্তুতি ভাল?

    • কয়েক টা উপায়ে ধারনা পাওয়া যেতে পারে।

    • যদি আপনি ৫ টা অপশনকে এক্সক্লুশান মেথডে আলাদা করতে পারেন।

    • যখন কোন একটা বিষয় সম্পর্কে আপনার কন্সেপ্ট এর জায়গা টা ক্লিয়ার হয়েছে বলে বুঝবেন।

    • আপনার প্রশ্ন সলভ এ আপনি কেমন নাম্বার পাচ্ছেন তার গড় যদি আশানুরূপ গড়ের আশেপাশে থাকে।  বিশেষ করে past paper সলভ করার সময়।

    • আশানুরূপ গড় বলতে, আপনি ৬৫%-৭৫% এর মাঝেই সব সময় নাম্বার পাচ্ছেন এমন টা বুঝাচ্ছি।

প্রস্তুতির সময় কোন ভুল গুলো সচরাচর হয়ে যায়। যা না করাই উত্তম?

সবাই সচেতন ভাবেই পড়বেন। অনেক ব্যয়বহুল পরীক্ষা। তবু, কিছু জিনিস এড়িয়ে যাওয়া ভালো।

যেমন

    • সময় ধরে প্রশ্ন অনুশীলন কম করা বা না করা। শুধু পারলেই তো হচ্ছে না। সব গুলো উত্তর পড়ে, চিন্তা করে সঠিক উত্তর টা করতে হবে। তাই, সময় হিসাব করে অনুশীলন করতে হবে।

    • প্রশ্নের মূল বিষয় বস্তু কে ভাল ভাবে বুঝতে হবে। কন্সেপ্ট ক্লিয়ার এর চেয়ে তথ্য মুখস্তের দিকে বেশী গুরুত্ব দেয়া। মুখস্ত অবশ্যই লাগবে। তবে, যেখানেই বোঝার মত বিষয় আছে অবশ্যই তা বুঝে পরের টপিক এ যাবেন। কারন, আপনি একটা জিনিস ভুলে যেতেই পারেন। তবে, যদি বোঝার মত কিছু থাকে তাহলে কঠিন প্রশ্নের উওর আপনি বের করে ফেলতে পারবেন এক্সক্লুশান মেথডে।

    • সলভ করার সময় যেগুলো উত্তর না সেগুলো কেনো উত্তর হলো না সেটা ঠিক ভাবে না জেনে চলে যাওয়া। আপনি তখন ই পরিপক্ক হবেন যখন আপনি কোন উত্তর গুলো কেনো উত্তর আর কোন টা কেনো নয় এটা বুঝতে পারবেন।

অনেক দিন ধরে পরীক্ষা দেয়ার কথা ভাবছেন কিন্তু আর দিতে পারছেন না? কি করা যায়?

এটা যে শুধু আপনার হয় তা নয়। আসলে বয়সের এই পর্যায়ে এসে একদিকে ট্রেনিং / চাকুরি, অন্যদিকে বিসিএস / এফ সিপিএস /এমডি, পারিবারিক দায়িত্ব এসবের ভিড়ে লম্বা সময়ের জন্য পড়াটা একটু কঠিন। তার উপর, পরীক্ষার ফিস টাও অত্যধিক। তাই দ্বিধা থাকবেই। তবে, যত সময় যাবে ব্যস্ততা বাড়বে। দায়িত্ব বাড়বে। মনে রাখার ক্ষমতা একটু একটু কমবে। তাই, প্রথম কাজ হলো, ডায়েট ফিক্স করা। এবং সেটাকে মাথায় রেখে ফর্ম ফিলাপ করা। ডায়েট ফিক্স করে, লক্ষ্য নির্ধারন না করলে সহজে বসতে পারবেন না। সেই সাথে MRCP part – 1 এর প্রস্তুতির সময় সকল ফোকাস এদিকেই রাখতে হবে।

কত মাস প্রস্তুতি নিলে মোটামুটি প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব?

এটা আপেক্ষিক বিষয়। একেক জনের এক এক রকম। কাজের অভিজ্ঞতা, আগে কোনও পোস্ট গ্রেজুয়েশান পরীক্ষা দেয়ার অভিজ্ঞতা আছে কিনা, চাকুরির ধরন, দিনে কত সমগ পড়তে পারছেন ইত্যাদির উপর নির্ভর করে।
তার পরেও গড় হিসেবে ৪ থেকে ৬ মাস নিয়মিত পড়াশুনা করে সময় প্রস্তুতি গ্রহণ করলেই যথেষ্ট। তবে যেহেতু পরীক্ষাটি ক্লিনিকাল যারা সদ্য ইন্টার্নশিপ করেছে তাদের জন্য আরেকটু বেশি সময় নিয়ে মাঠে নামাই শ্রেয়।

কোন ডায়েটে পরীক্ষা দিব, এমন কি কোন বিষয় আছে?

না তেমন কোন বিষয় নেই। ডায়েট হিসাবে পরীক্ষা পাশের হার কম বা বেশি বা তারতম্য হয় না। তবে ঋতু গত পরিবর্তনের বিষয়টিতে আপনি যদি খেয়াল করেন আপনি কখন পড়তে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন শীতকাল/গরমকাল সেটিকে মাথায় রেখে আপনি প্রস্তুতি বা আপনার পরীক্ষার ডায়েটের সময় নির্ধারণ করতে পারেন।

ছয় মাসের প্রস্তুতির সময়টাকে কিভাবে ভাগ করে পড়া উচিৎ?

যদি কেউ ছয় মাসের প্রস্তুতি নেওয়ার চিন্তা করে সে ক্ষেত্রে প্রথম তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে যেকোনো একটি প্রশ্ন ব্যাংক পুরোপুরি শেষ করতে পারলে ভালো। এর পরের দুই থেকে আড়াই মাস আরেকটি প্রশ্ন ব্যাংক সল্ভ করতে হবে। পাশাপাশি পাস্ট পেপার থেকে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে। শেষ দিকের ১০- ১৫ দিন বেশি প্রশ্ন ব্যাংক নতুন করে সলভ না করে, sample question এবং প্রয়োজনে পাস্ট পেপার থেকে নির্ধারিত কিছু প্রশ্ন পত্র সলভ করতে পারেন। আর মূলত এই সময় টা রিভিশন দেওয়ার জন্য রাখতে হবে। রিভিশন কি কি উপায় আপনি দেবেন তা আগে থেকেই নির্ধারিত করে রাখতে হবে।

রিভিশন কিভাবে দেওয়া যেতে পারে?

একেক জন পরীক্ষার্থী রিভিশন দেওয়ার উপায় বা ধরন একেক রকম।

    • তবে সাধারণত, অনেকেই প্রশ্ন ব্যাংক সলভ করার সময় নিজস্ব কিছু নোটস লিখে রাখেন। পরবর্তীতে একসাথে যা একটু রিভিশান নোটের আকার ধারন করে।

    • কেউ কেউ মাগরাবী অথবা নোটস এন্ড নোটস এর বইগুলোকে দাগিয়ে সাজিয়ে রাখে, যাতে শেষ সময়ে এসে খুব দ্রুত বইগুলো রিভিশন দেওয়া যেতে পারে।

    • অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন ফ্ল্যাশকার্ড বা রেড ফ্লাগ চিহ্নিত প্রশ্নগুলোকে বারবার রিভিশন দেওয়ার মাধ্যমে এবং সাথে কিছু প্রশ্নপত্র সল্ভের মাধ্যমে তাদের রিভিশন দেওয়ার সময় তাকে কাজে লাগান।

    • যারা কোন কোচিং বা কোন মেন্টরের সহযোগিতায় প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন তারা কোচিং বা মেন্টর কর্তৃক প্রদেয় রিভিশান নোটস এর মাধ্যমে রিভিশন দেন।

আপনি আপনার সুবিধা মত যেকোনো একটি উপায়ে রিভিশন দিতে পারেন। তবে রিবিশান দেওয়ার বিষয়টিকে প্রস্তুতি গ্রহণের শুরু থেকেই বিবেচনায় রাখতে হবে। যেন শেষ দিকে রিভিশন কিভাবে দিবেন এ নিয়ে চিন্তা গ্রস্ত হতে না হয়।

MRCP P-1 পাশ করার জন্য কোন কোচিং বা কোন মেন্টরের অধীনে থাকা কি জরুরী?

এটিও একটি আপেক্ষিক বিষয়। কোচিং বা মেন্টররা মূলত যাত্রা টিকে সহজ করবার জন্য চেষ্টা করেন। অনেকদিন ধরে এই বিষয়ে পড়াশোনা করান এবং এই বিষয়ের উপর প্রশ্নগুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন। সেজন্য তাদের বেশ কিছু সহায়তা আপনাকে দ্রুত এবং একটি কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হয়তো সহযোগিতা করতে পারে।
সেক্ষেত্রে যারা একেবারেই নতুন, ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা কম তারা বুঝেশুনে ভালো কোন জায়গা থেকে সহায়তা নিতে পারেন। তবে যাদের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যারা ইতোপূর্বে কোনও পোস্ট গ্রেজুয়েট পরীক্ষা দিয়েছেন তাদের পক্ষে কোন ধরনের কোচিং ছাড়াই নিজে বাসায় বসে প্রস্তুতি নিয়ে Part -1 পাস করা সম্ভব।
তবে আপনি চাইলে ভালো কোন কোচিং অথবা মেন্টরের কাছে মডেল টেস্ট বা বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষা দিতে পারেন ।

একাই পড়বেন নাকি কোনও পার্টনার সহ পড়বেন?

যদি আপনি আপনার মত সিরিয়াস কাউকে পেয়ে যান তাহলে দুজন মিলে একসাথে পড়তে পারেন।  তবে দুজনের বেশী না হওয়াই শ্রেয়। এতে সময় নষ্ট হবার সম্ভাবনা বেশী।  রিডিং পার্টনারকে হবে, তা বাছাই করার সময় এমন একজন হলে ভাল যে হয়তো আপনার কর্মস্থলেই বা একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এতে দুজনের কাজের রুটিন কাছাকাছি হবে।  এমন একজন হলে ভালো যিনি শুনতে ও বলতে অভ্যস্ত। এতে দ্রুত পড়া আগাবে।
তবে, স্বামী-স্ত্রী না হলে বিপরীত লিঙ্গের কাউকে রিডিং পার্টনার বানানোর ব্যাপারে বিবেচনায় না রাখাই উত্তম।  সময় ও ফোকাস দুটোই এলোমেলো হতে পারে।

কোন চ্যাপ্টারগুলো বেশী গুরুত্ব দিবেন ও সময় বেশী দিবেন?

প্রতিটা চ্যাপ্টারই জরুরী।  তবে, বেশী নাম্বার থাকে এবং তা পাওয়া সম্ভব যেগুলো সেগুলো বেশী করে রিভাইস দিতে হবে। যেমন, Neurology, Cardiology, Endocrinology, Respiratory medicine, Rheumatology, Nephrology ইত্যাদি।  আপনি কোনটা বেশী পারেন তার উপর ভিত্তি করে এই লিস্ট পরিবর্তন করতে পারেন।

তাহলে, Part -1 প্রস্তুতির রিসোর্স গুলোর সমন্বয় কেমন হতে পারে?

    • 1 book (Hamad or Magraby)

    • 1 Question Bank must – passmedicine (Complete 100%)

    • Try to solve Pastest as much as possible

    • Past paper

    • Mock test from pass medicine

    • Lastly, RCP sample question.

    • Most precious Your own note.

*** For Topic or conception clarification ***
Davidson / Oxford / Internet exploring

পরীক্ষার আগের রাতের জন্য বিশেষ নির্দেশনা আছে কি?

স্বভাবতই এই রাতটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। মনে রাখতে হবে, যতটুকু প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব তা গত চার থেকে ছয় মাসের মধ্যেই নিয়ে ফেলেছেন। নতুন করে এক রাতে খুব বেশি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই এই সময়টিকে আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য যতটা সম্ভব শান্ত ও স্থির রাখতে হবে।

খুব স্বাভাবিক খাবার যা হজম শক্তির ওপর প্রভাব ফেলবে না তা খেয়ে, সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চেয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনি ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। পরিষ্কার সুন্দর ঘুম মনকে সতেজ রাখবে। সকালে ঘুম ঘুম ভাব থাকবে না।, যা দীর্ঘ সময় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। আপনি যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন, প্রস্তুতি নিয়েছেন, এখন আপনি যতটা ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষার সময়টাকে অতিবাহিত করতে পারবেন তত বেশি সঠিক উত্তর আপনার পক্ষে দাগানো সম্ভব হবে।

আপনার পরীক্ষা কোনও সেন্টারে গিয়ে দিতে হবে অবশ্যই সেই সেন্টার কোথায়, কিভাবে সহজে যাওয়া যায়, কতটা সময় হাতে নিয়ে বের হলে সময় এর একটু আগেই যেতে পারবেন এগুলো দেখে নিবেন।
যা যা নেয়া প্রয়োজন সেগুলো গুছিয়ে রাখবেন। যেমন এডমিট কার্ড, পাসপোর্ট বা NID. পরীক্ষার বেশ কদিন আগেই আপনাকে মেইল করে এসব বিষয় জানানো হবে।
আর যদি বাসায় বা আপনার নিজস্ব আয়োজনে পরীক্ষা দিতে হয় সেক্ষেত্রে নিরব, ঝামেলাহীন, চমৎকার ইন্টারনেট স্পীড ও বিদ্যুৎ এর নিশ্চয়তা সম্পন্ন জায়গা বেছে নিতে হবে। আপনি কিভাবে পরীক্ষা দিবেন সেটা মেইল এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।

পরীক্ষার দিন কি করবেন?

পৃথিবীতে ডাক্তারদের মত এত বেশি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ হয়তো কোন পেশার মানুষের দিতে হয় না। তাই পরীক্ষার দিনের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত তা প্রতিটি ডাক্তার ই খুব ভালোভাবেই জানেন। তারপরেও কিছু কথা চাইলে পড়তে পারেন।

    • শান্ত মনে দিন টি শুরু করবেন। খুব সকালে বা খুব দেরীতে উঠার প্রয়োজন নেই। ফ্রেশ হয়ে আপনার ধর্ম অনুযায়ী আপনি সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করতে পারেন। বই গুলো উলটে পালটে ধরবেন। পাতা উল্টাবেন। পড়ার দরকার নেই। এটা মনের শান্তি। দুই পেপারের মাঝের বিরতির সময়ের জন্য হাল্কা খাবার নিয়ে নিবেন। ৬ ঘন্টা পরীক্ষা দেয়া খুব সহজ কিছু না। ব্রেইন অবসাদ হয়ে যায় বিধায় শেষ দিকে মাথা কাজ করতে চায় না। তাই, চকলেট জাতীয় খাবার সাথে রাখতে পারেন দ্রুত ব্রেইন এ গ্লুকোজ সাপ্লাই দেয়ার জন্য।

    • সকালের খাবার নির্বাচনে সতর্কতা জরুরী, গ্যাস-এর সমস্যা হতে পারে, এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভাল।

    • তরল খাবার খুব বেশী না খাওয়াই ভালো (যেমন চা কফি – যা খেলে প্রস্রাব এর বেগ বাড়ে) যেনো ওয়াশরুমে যাবার তাড়না পরীক্ষার মাঝে চলে আসে।

    • অবশ্যই ওয়াশরুমের কাজ সম্পন্ন করে পরীক্ষা হলে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। পরীক্ষার ৬ ঘন্টার প্রতিটা মিনিট আপনার পাসের জন্য জরুরী। তবে নিতান্তই পরীক্ষার মাঝে যাবার প্রয়োজন হলে সেটার সুযোগ থাকবে। তবে, মোট সময় যা ছিলো তাই অপরিবর্তিত থাকবে।

    • এর বাইরে আপনার বা আপনার কাছের মানুষের রীতি অনুযায়ী যা করার সেটা করে পরীক্ষার জন্য রওনা বা প্রস্তত হবেন।

পরীক্ষার ৩+৩ ঘন্টার জন্য কোনও পরামর্শ আছে কি?

জ্বী। কিছু কৌশল আপনি অবলম্বন করতে পারেন পরীক্ষার সময়টুকুর জন্য।
যেমন –

    • একটা বিষয় পরিস্কার থাকতে হবে। যেহেতু কোন নেগেটিভ মার্ক নেই, প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই দাগিয়ে আসতে হবে।

    • আপনাকে বাসায় প্রস্তুতির সময় থেকেই সময় ও প্রশ্নের একটা হিসাব করেই আসতে হবে। অর্থাৎ, আপনি কতটুক সময়ে কয়টা উত্তর করবেন। এক্ষেত্রে, একটি প্রশ্নের জন্য প্রায় ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড করে পাবেন। তবে আপনি বাসায় এমন ভাবে প্রস্তুতি নিবেন যেন আপনি প্রতি আধা ঘন্টায় যেনো ১৮-২০ টি প্রশ্ন দাগাতে পারেন। এতে করে আপনি একদম শেষ কিছু সময় পাবেন সব কিছু চেক করার জন্য। কিছু বাদ থাকলে সেটা ভাবাফ জন্য।

    • তবে বিষয়টা ফিক্স না। কারন কোন ৩০ মিনিটে আপনি ২৫টার বেশী দাগিয়ে ফেলতে পারেন আর কোন ৩০ মিনিটে ১৫টা। তাই, একটা গড় হিসাব করে এগিয়ে যাবেন।

    • আপনি প্রথম থেকেই সিরিয়ালি দাগাবেন। যদি কোনটা না পারেন ফ্ল্যাগ করে দিয়ে যাবেন। যেন পরে এসে স্পেসিফিক সেই প্রশ্নটা নিয়ে ভাবতে পারেন।

    • পরীক্ষার হলে গবেষণা করা যাবে না। আপনার মনে হতে পারে আরেকটু ভাবি, এটা মনে হয় পারবো। কিন্তু এই ভাবার সময় বেশী হলে চোখের পলকে দেখবেন ৩-৫ মিনিট চলে গেছে। আপনি এক প্রশ্নে আটকে গেছেন। তাই, টপিকটা যদি আপনার একেবারেই জানা না থাকে কিংবা আপনি একবার পড়েই বুঝে গেছেন এটা পারবেন না তাহলে ফ্ল্যাগ দিয়ে পরের প্রশ্নে চলে যান। ঘাবড়াবেন না।

    • তবে, যদি আপনি এটা বুঝতে পারেন যে এটা আপনি পড়েছেন, পরিচিত, আরেকবার প্রশ্নটা পড়লে পারার সম্ভাবনা আছে তাহলে আরেকটু সময় দিতে পারেন।

    • আপনি পারেন আর না পারেন কিংবা ফ্ল্যাগ দিয়ে সামনে চলে যান, যা-ই করেন পাচ টার যে কোনও একটা অবশ্যই দাগিয়ে যাবেন। এমনও হতে পারে শেষে আপনি আর সময় পেলেন না। আর আপনার একটা প্রশ্ন দাগানোই হলো না। হয়তো ভাগ্যক্রমে সেটা দাগানো থাকলে সঠিকও হতে পারত।

    • ধরেন আপনি কোনটাই বুঝতেছেন না। ৫টাই কনফিউজিং। তাহলে প্রশ্ন টা পড়ার পর সবার প্রথম যে অপশন টা আপনার একবারের জন্যেও মনে হয়েছিল সেটা দাগ দিয়ে দেন।

    • সঠিক উত্তরটা মনে নেই, তবে টপিক টা পড়েছেন এমন প্রশ্ন আসলে দ্রুত বাকি গুলো এক্সক্লূড করে উত্তর বাছাই করুন।

    • কোন প্রশ্ন তা যত সহজ-ই মনে হোক, উত্তরটাও জানেন, তবু ৫টা অপশন একবার না দেখে লাফ দিয়ে উত্তর দাগায় দিয়েন না। ৫ -৬ সেকেন্ড লাগবে ৫টা অপশন দেখতে। এর গুরুত্ব টের পাবেন past paper বা sample question সলভ করার সময়। আর ফল পাবেন পরীক্ষার হলে।

    • শেষ করি আরেকটা কথা বলে। মনে করুন আপনি কিছুক্ষণ পরীক্ষা দেয়ার পর আপনার মনে হলো আপনার পরীক্ষা ভাল হচ্ছে না। আপনি অনেক গুলো ফ্ল্যাগ করে আসছেন। যেগুলো ফ্ল্যাগ করেন নি তার মাঝেও কিছু প্রশ্নে কনফিউশান রয়ে গেছে। অনুরোধ করবো ঘাবড়ে যাবেন না। স্ট্রেস না নেয়ার চেষ্টা করবেন।

কেন?

কারন, MRCP Part-1 এর সকল প্রশ্নের নাম্বার সমান নয়। যে প্রশ্নগুলো কঠিন বা অনেকেই পারছে না সেগুলোতে তুলনামূলক নাম্বার বেশী। আর যে প্রশ্ন গুলো সহজ, সবাই পারছে তাতে নাম্বার কিছুটা কম।

সুতরাং, এমনটাও তো হতে পারে আপনি একটু পরেই এমন কিছু প্রশ্ন উত্তর দিতে পেরেছেন, যা কঠিন, অন্য অনেকেই পারবে না। আর এমন কিছু প্রশ্ন আপনি পারেন নি যেগুলোতে নাম্বার কম ছিলো। তাই, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আর নিরাশ হবে না। সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রেখে, নিজের প্রস্তুতির উপর বিশ্বাস রেখে একদম শেষ প্রশ্ন অব্দি সমান গুরুত্ব ও মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করবেন।

ধরুন, আপনি Paper-1 দেয়ার পর মনে করতেছেন ভালো হয়নি। পাস বোধয় হবে না।

তাহলে বলবো, হারার আগেই হেরে যাবেন না।

আগেই বলেছি, আলাদা আলাদা দুই পেপারে পাস না করলেও চলবে। অর্থাৎ, আপনি Paper-2 ভালো করে দিতে পারলে দুই পেপার মিলে পাস করলেই হবে। তাই, ধীরস্থির থাকুন। সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন।

সৃষ্টিকর্তা আপনাদের এই জার্নি সহজ করে দিন। সফলতা দান করুন।

ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।